সব ফ্রন্টে প্রস্তুত চীনা বাহিনী

0
135

চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয়ায় এ থেকে ফায়দা হাসিল করা যাবে বলে ভারতের সেনা অফিসাররা ভাবলে সেটা বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু হবে না। চীনের বিশ্লেষকরা এ কথা মনে করেন। কারণ চীনে সেনাবাহিনী প্রতিটি ফ্রন্ট-দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান দ্বীপের আশেপাশে ও চীন-ভারত সীমান্তের কাছে তীব্র ও যুগপৎ মহড়া চালিয়ে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান এম এম নারাভানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পরিস্থিতি সম্পর্কে শুক্রবার ব্রিফ করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী মনে করছে- এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হবে।

ভারতীয় মিডিয়ার খবরে দাবি করা হয়, সীমান্ত এলকায় চীন সু-৩০ ফাইটার ও এইচ-৬ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। তাই লাদাখে আকাশ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপনাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত।

শুক্রবার এক খবরে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম পিটিআই বলে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ জার্মানি থেকে সেনা কমিয়ে এনে চীনের হুমকি মোকাবেলা করার জন্য অন্যান্য স্থানে মোতায়েন করবে।

আরও পড়ুনঃ ভারত-চিন সংঘাত ঘিরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল!

চীনকে মোকাবেলায় যে চেষ্টা চলছে ভারতকে তার একটি কার্ডে পরিণত করতে অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে তারা ভারতের অভ্যন্তরিণ জাতীয়বাদী ও কট্টরপন্থীদের ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এটা ভাবা বোকামি যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হবে আর তাতে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে ভারত সুবিধা পেয়ে যাবে।

বেইজিংভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়েই দংশু বলেন, এটা ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বিভ্রান্তি ছাড়া কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র শুধু চীনকে দমন করতে ভারতের কাছ থেকে সুবিধা নেবে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে মার্চ করে যাবে না।

ওয়েই বলেন, সবক্ষেত্রে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) উচ্চমাত্রা যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে আছে। তবে এই উত্তেজনার পরও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বাধার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হলো পিএলএ’র শক্তি ও কৌশলগত প্রতিরোধক।

বিশ্লেষক আরো উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অঞ্চলে একই সঙ্গে ও তীব্র সামকির মহড়ার মাধ্যমে পিএলএ উচ্চমাত্রার যুদ্ধপ্রস্তুতির সামর্থ্য দেখিয়েছে।

বুধবার থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ চীন সাগরে শিসা দ্বীপপুঞ্জের কাছে সামরিক মহড়া করবে চীন।

পিএলএ’র সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড নেভাল ফ্লোটিলা ১৮ জুন দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়া দেয়। এতে ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট অংশ নেয়।

সম্প্রতি তাইওয়ানের আশেপাশে মার্কিন সামরিক বিমানের আনাগোনার কারণে জুনে অন্তত ৮ বার পিএলএ’র সামরিক বিমান ওই অঞ্চলে টহল দেয়।

সম্প্রতি ফুজিয়ান প্রদেশে পিএলএ’র ৭৩তম গ্রুপ আর্মি লাইভ-ফায়ার এম্ফিবিয়াস এক্সারসাইজ করেছে।

এরপরও ভারত সীমান্তে পিএলএ’র মহড়া থেমে থাকেনি। পিএলএ’র ৭৪ আর্মি গ্রুপ সম্প্রতি হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরপশ্চিম চীনে গিয়ে দিবা-রাত্রি আর্টিলারি স্ট্রাইক ড্রিল চালিয়েছে।

এশিয়া-প্যাসিফিকে পিএলএ’র সামর্থ্য জানে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সে চীনের সঙ্গে উত্তপ্ত যুদ্ধে জড়াবে না। তাহলে ভারত কিভাবে এমনটা ভাবার সাহস পায়, সেই প্রশ্ন চীনা বিশেষজ্ঞদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here