নবাবজাদা ও একজন আবুল মোমেন ব্যারিস্টার আবু সায়েম

0
61

অনলাইন ডেস্ক : আবুল মোমেনকে দেখলে আমার হাসি পায়। তার চেহারায় কিছুটা বেওকুফ বেওকুফ ভাব আছে। সম্ভবত তিনি পরচুলা ব্যবহার করেন এবং তার ভাষাগত দুর্বলতাও প্রকট। সময়ে সময়ে জবান খুলে তিনি যখন অনর্থ তৈরি করেন, তখন তাকে আমার সার্কাসের জোকার বলে মনে হয়। সব মিলিয়ে আবুল মোমেনের ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা দিবালোকের মত স্পষ্ট। এমন একটি লোক এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী! ভাবতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। ভোটবিহীন নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসার পর এমপি-মন্ত্রী বনে যেতে এখন আর ব্যাকরণ লাগে না। সে সুবাদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অপদার্থ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও আমাদের পরিচয় হয়ে গেছে।

তবে আবুল মোমেন বেওকুফ নন। অর্থনীতির ছাত্র হয়েও এবং সারাজীবন অর্থনীতিতে ক্যারিয়ার কাটিয়েও তিনি এখন একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার আগে বাগিয়ে নিয়েছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পদ, যা সম্ভব হয়েছিলো ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায়। বড় ভাই আবুল মাল আব্দুল মুহিত অবসরে যাওয়ার আগে সিলেট-১ আসনের বন্দোবস্ত দিয়ে যান মোমেনকে। সুতরাং এমপি হতেও তার বেগ পেতে হয়নি। তো এরকম একজন মানুষ আর যা-ই হোন, বেওকুফ নন। তিনি যা বলেন, বুঝেশুনেই বলেন। তিনি জানেন তার জবাবদিহিতা কোথায়।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে আবুল মোমেন বলেছেন, “প্রবাসীরা দেশে এলে নবাবজাদা হয়ে যান।” এ বিষয়ে কথা বলবো। তবে তার আগে মোমেনের পূর্বের কিছু উক্তি ও বক্তব্য পর্যালোচনা করা দরকার।

গেলো বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে তিনি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তার প্রতিশ্রুতি ছিলো, ভারত দিয়েই শুরু করবেন বিদেশ সফর। তিনি কথা রেখেছিলেন। কোলকাতার দৈনিক আজকালের সাথে সাক্ষাৎকারে তিস্তা চুক্তিকে সামান্য বিষয় বলে অভিহিত করেছিলেন মোমেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারত আমাদের দেশে পুশ ইন শুরু করলে তিনি বলেছিলেন, “ভারত জোর করে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে না।” সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবুল মোমেনের বক্তব্য ছিলো রীতিমতো দেশদ্রোহিতার শামিল, “ভারতে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ হলে সীমান্তে হত্যাও বন্ধ হবে।”

নিষ্ঠুরতার বিচারে উপরের সব ডায়ালগ ম্লান হয়ে যায় গত নভেম্বরে আবুল মোমেনের করা একটি পৈশাচিক মন্তব্যে। সৌদিতে নারী গৃহকর্মীদের মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “সৌদি আরব থেকে ৫৩ নারীর মরদেহ ফিরেছে, যা খুবই কম।” প্রথম আলো রিপোর্ট করে, সৌদি আরবে যাওয়া নারী কর্মীদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়ে আবদুল মোমেন বলেন, “কিছু কিছু নারী নিজেদের কারণে নির্যাতিত হয়।”

এই হচ্ছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি কথা বলেন দিল্লীর ভাষায়। প্রায়শই তাকে আমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলে মনে হয় না, মনে হয় বিদেশমন্ত্রী। তিনি প্রবাসীদের নবাবজাদা বলে তিরস্কার করেছেন, এতে কষ্ট পাওয়ার কী আছে? হারামজাদা বলে যে গলাধাক্কা দেননি, সেটাইতো আমাদের মহাসৌভাগ্য। মন্ত্রী-এমপি হওয়ার জন্যেতো তাকে ভোটে নির্বাচিত হতে হয়নি। দেশে কিংবা প্রবাসে কোথাও তার বাংলাদেশীদের প্রতি জবাবদিহিতা নেই, থাকার কথাও না। যেখানে তেল ঢাললে পদ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না, যা খুশি বদমায়েশি করা যায়, তিনি সেখানে তেল দিয়ে এসেছেন শুরুতেই, এখনো দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দেশের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ কোন অবদান না রাখতে পারলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ পর্যন্ত প্রভুদের খুশি রাখতে পেরেছেন এটা সর্বজনবিদিত। তাই কাউকে পরোয়া করতে হয় না আবুল মোমেনের। অবলীলায় তিনি প্রবাসীদের নবাবজাদা বলে উপহাস করতে পারেন। তবে সময় বদলে যায়।

গণতন্ত্র যেদিন ফিরে আসবে দেশে, সেদিন অবশ্যই আমরা সবাই নবাবজাদা হবো। আর ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে আবুল মোমেন নামক নিকৃষ্ট গাদ্দার ও তার সঙ্গীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here