ধর্ষণের হাফ সেঞ্চুরি

0
79

জসিমউদ্দিন রানা। বয়স তেইশ না পেরুতেই হাফ সেঞ্চুরি করেছে ধর্ষণে। দুটি পাতানো বিয়ে করে সংসার করছে গত ৪ বছর ধরে। রয়েছে আড়াই বছরের একটি কন্যা। গত ৬ই মার্চ পাতানো দ্বিতীয় স্ত্রী মাদারীপুর সদর থানাধীন চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুরভী আক্তার (১৯)কে হত্যা করে পুলিশের হাতে রানা আটক হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে কিশোরীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলা, পাতানো বিয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা। রানা বরগুনার পাথরঘাটার থানাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকার আব্দুল জলিলের পুত্র।রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ৬ই মার্চ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার দক্ষিণবাজার এলাকার মতিন মাস্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও প্রাণ কোম্পানির অত্র এলাকার এসআর জসিমউদ্দিন রানা তার স্ত্রী সুরভী আক্তার (১৯) কে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গত ৯ই মার্চ তার নিজবাড়ি বরগুনার পাথরঘাটার থানাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গতকাল মঙ্গলবার রানা নারায়ণগঞ্জ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। স্বীকারোক্তিতে রানা জানায়, ১৫ বছর বয়স থেকেই তার বিকৃত যৌন লালসা ছিলো। সে স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করতো। এ কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতো সে। যেখানেই যেতো সে এলাকার বিবাহিত বিধবা বিপত্নীক অথবা কিশোরীদের কথার মায়াজালে ফেলে ধর্ষণ করতো। ২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নোনদা এলাকার নান্নু মিয়ার মেয়ে নাজনীন বেগম প্রেমের টানে তার কাছে ছুটে এলে সে তাকে ঘরে তুলতে বাধ্য হয়। পরে নকল কাজী দিয়ে বিয়ের নাটক করে নাজনীনের সাথে সংসার শুরু করে রানা। সেখানে পারভীন নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। গত বছর তাকে ফেলে সাভার চলে আসে রানা। সেখানে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্কের জেরে মাদারীপুরের সদর থানাধীন চরমুগুরিয়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুরভী আক্তার তার কাছে ছুটে এলে আবারো নকল কাজী দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে সে। কিন্তু বিয়ের ব্যাপারটি রানার কয়েকজন প্রেমিকা জানতে পেরে সে সাভার গত ২ মাস পূর্বে রূপগঞ্জে চলে আসে। এখানে প্রাণ কোম্পানির এসআর পদে চাকরি নিয়ে কাঞ্চন বাজারের মতিন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করে। এদিকে স্ত্রী সুরভি নকল বিয়ে ও বহুনারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আসল কাবিন করতে চাপ দেয়। অন্যথায় তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দেয় সুরভী। এতে ঘাবড়ে গিয়ে রানা গত ৫ই মার্চ রাতে বাড়িতে পোলাও মাংস রান্নার আয়োজন করে। রাতের আহারের পর কোকাকোলার সাথে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে সুরভীকে অচেতন করে। পরে ভোররাতে সুরভির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যার পর ঘরে তালাবদ্ধ করে বরগুনায় পালিয়ে যায়। পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বরগুনার পাথরঘাটার থানাধীন পদ্মা করমজাতলা এলাকায় তার নিজ বাড়িতে সোমবার অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রানা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ৪৮টি ধর্ষণসহ এসব অপকর্মের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুল হাসান বলেন, আমার চাকরি জীবনে এমন নৃশংস সিরিজ ধর্ষক আর হত্যাকারী অপরাধী আগে পাইনি। হত্যার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঘাতক রানার অন্যান্য অপকর্মগুলোর তদন্ত করবো আমরা। কেউ যদি মামলা করেন সেটাও আমলে নিবে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here