দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা আমার প্রধান কাজ: ছাত্রদল সভাপতি খোকন

0
92

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বগুড়ার ছেলে ফজলুর রহমান খোকন। বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল আইন সমাজ ডটকমকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সংগঠন নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনা ও কর্মপরিকল্পনার কথা। খোকন বলেন, ‘আমাদের নতুন কমিটির প্রধান কাজ হবে আমাদের মা, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা। এ লক্ষ্যে আগে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এরপর সারা দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করে রাজপথে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে তার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ছাত্রদলের নতুন এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমি এমন একসময়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি যখন আমাদের মূল সংগঠন বিএনপি অত্যন্ত দুঃসময় পার করছে। আমাদের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি মিথ্যা মামলায় আজ কারাবন্দি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের রোষানলে পড়ে সুদূর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। ছাত্রদলের অনেক নেতা গুম হয়ে আছেন। সারা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। লাখ লাখ নেতাকর্মী মিথ্যা মামলায় জর্জড়িত। এ অবস্থায় ছাত্রদলের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় অভিভাবক, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যে নতুন নেতৃত্ব আসবে তাদের নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন বলেন, বিগত দিনের মতো সংগঠনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ভর না করে কমিটির সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কমিটির সদস্যদের নিয়মিত কার্যালয়ে আসতে হবে। চাঁদা দিতে হবে। টাকার অভাবে অসহায়, গরীব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। আগামী দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতিতে দলের অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংকট ও সমস্যা নিরসনে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম সংগঠিত করা হবে। নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে ছাত্রদল নেতৃত্ব দিয়েছে, সেভাবে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে ছাত্রদল। সাধারণ ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ে যৌক্তিক আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাহিত্য, ক্রীড়া ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। মাসিক স্টাডি সার্কেল গড়ে তোলা হবে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশকে বিকশিত করা হবে।
ব্যক্তিগত পরিচায় : খোকনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর গ্রামে। তার বাবা মো. খালেকুজ্জামান অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকরিজীবী। মা ফরিদা ইয়াসমীন এখনো সরকারি চাকরি করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে খোকন বড়। ২০০০ সালে এসএসসি পাস করা খোকন ২০০৩-২০০৪ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দপ্তরবিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পান। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন তিনি।
খোকনের বাবার প্রত্যাশা : ছেলে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার পর বাবা মো. খালেকুজ্জামান ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের জেলা যশোরে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের বাসায়। তরিকুল ইসলামের স্ত্রীর কাছে খোকনের জন্য ভোট ও দোয়া চান তিনি। গতকাল দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমি চাই নির্বাচনের আগে আমার ছেলে কাউন্সিলরদের কাছে যেসব ওয়াদা করেছে তা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করুক; বিশেষ করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সারা দেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারবিরোধী আন্দোলনের মতো রাজপথে জোরালো ভূমিকা পালন করুক আমার ছেলে।’
খোকনকে তারেক রহমানের ফোন : বৃহস্পতিবার ভোরে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি খোকনের সঙ্গে লন্ডন থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউন্সিলে অংশ নেওয়া প্রার্থীসহ সব স্তরের নেতাকর্মীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শ্রাবণের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারেক রহমান। এ ছাড়া নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।’
দীর্ঘ ২৭ বছর পর গত বুধবার রাতে কাউন্সিলররা সরাসরি ভোট দেন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে। রাজধানীর শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় এই ভোট হয় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মির্জা আব্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে তুমুল প্রতিযোগিতায় খোকন পেয়েছেন ১৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের ভোট ১৭৮টি। সাধারণ সম্পাদক পদে ইকবাল হোসেন শ্যামল পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকিরুল ইসলাম জাকির পেয়েছেন ৭৮ ভোট। এ সময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here