ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন আ’লীগ বহিরাগতদের দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল

0
30

ক্ষমতাসীনরা বহিরাগতদের ঢাকায় জড়ো করে ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আসন্ন সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করুন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন। অন্যদিকে ঢাকাবাসীকে ১ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবিধান রক্ষার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করুন। সকল অন্যায় অবিচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি ২০২০) দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য নিম্নরুপ: প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, সালাম নিবেন। আপনারা প্রতিদিন এই নির্বাচনে যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছেন। আপনাদের ভূমিকার জন্য আপনারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। এই নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা ছিল যেহেতু এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সেহেতু অনির্বাচিত দখলদারী সরকার এবং অযোগ্য নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা এবং উদাসীনতায় ও সরকারের নির্দেশে কাজ করার কারণে এই নির্বাচনও দলীয়করণ করা হয়েছে-যা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। হাজারো নির্বাচন বিধি লংঘনের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। ঢাকা মহানগীর দুই সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদ্বয় ক্রমাগত নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে, রঙিন পোষ্টার, বিরোধী দলের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা, ফুটপাথের ওপর নির্বাচনী অফিস নির্মাণ, পুলিশ কর্তৃক বিএনপি নেতাকর্মীদের বেআইনীভাবে গ্রেফতার এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উস্কানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচনের পরিবেশকে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদের নির্বাচনের দিকে নিয়ে গেছে। উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ওপর শারীরিক আক্রমণ, গুলিবর্ষণ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ, আহত করা এবং পরে মিথ্যা মামলায় বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশের তল-াসী এবং গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পুনরায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মহল্লায় মহল্লায় দলের সন্ত্রাসী দিয়ে মহড়া, হুমকি প্রদর্শন করে বিরোধী দলের কাউন্সিলর প্রার্থী ও কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। হুমকি দিয়ে ভোটারদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সর্বোপরী সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। পুলিশও একই ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি’র অনেক সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা চিকিৎসার জন্য অথবা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন তাদেরকে বেআইনীভাবে গ্রেফতার করে পূর্বের ন্যায় একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে। ঢাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশ তল্লাসী শুরু করেছে। ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিএনপি প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে পূরণ করতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো মানুষ দখলদারী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের রায় প্রদান করার জন্য যখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, তখনই নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনী দিয়ে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার করে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন জনসমর্থন নেই। তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, হত্যা, শিশুসহ সকল বয়সের নারী ধর্ষণ, অসহনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা, সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট, জনজীবনকে দুঃসহ করে তুলেছে। গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দুরে রেখে একতরফাভাবে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছে। রাষ্ট্রের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে ধংস করা, গণতান্ত্রিক অধিকার একেবারেই সংকুচিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান এবং শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ইত্যাদি জনগণের সকল প্রত্যাশাকে হতাশায় রুপান্তরিত করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কার্যকরী ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের বিষয়ে সকল মহল আপত্তি জানিয়েছেন। আমরাও এর তীব্র বিরোধীতা করেছি এবং এখনও করছি। তারপরেও নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল এই কারণে যে, ভোট নিয়ন্ত্রণের এটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন দলে রুপান্তরিত হওয়ার কারণে নির্বাচনে ভয়ভীতি, সন্ত্রাস এবং ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুইটি নির্বাচনে জনগণের রায়কে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাকে রোধ করার শক্তি এই দখলদারী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নেই। কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাচ্ছি গণবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বেরিয়ে এসে সংবিধানে প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করুন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করুন এবং ভোটারা যেন নির্ভয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের মতামত প্রদান করতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। অন্যথায় বাংলাদেশের জনগণ কোনদিনও আপনাদের ক্ষমা করবে না। সংবিধান লংঘন এবং জনগণের অধিকার হরণের অভিযোগে আপনাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। ঢাকাবাসীর কাছে আমাদের উদাত্ত আহবান-আপনারা আপনাদের সংবিধান সম্মত অধিকার রক্ষার জন্য, যা আপনারা ১৯৭১ সালে একটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছেন তাকে রক্ষার জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোট কেন্দ্রে যেয়ে ভোট প্রদান করুন, আপনাদের নিজস্ব অধিকারকে নিশ্চিত করুন। এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আসুন আমরা সকল অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং ১লা ফেব্রুয়ারী ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমরা আমাদের মতামত প্রদান করি। নিরাপদ, বাসযোগ্য ঢাকা মহানগরী গড়ে তুলি। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করি। ধন্যবাদ সবাইকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here