গণজোয়ারকে ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : ইশরাক হোসেন

0
92

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ধানের শীষের পক্ষে সৃষ্ট গণজোয়ারকে ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি পহেলা ফেব্রুয়ারী কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণজাগরণকে সফল করার আহ্বান জানান। আজ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণার ১৫তম দিনে ধুপখোলা সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের সামনে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে মহানগরির ৪৬ নং ওয়ার্ডের ফরিদাবাদ (জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম) মাদ্রাসায় জুম্মার নামাজ আদায় শেষে ‘দয়াল বাবা মোতালেব শাহ (রাঃ)’-এর মাজার জিয়ারত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন ইশরাক হোসেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে চারদিকে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জনস্রত দেখে নির্বাচন এবং বিএনপির বিজয়কে বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। তবে এই অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ জেগে উঠেছে। এসময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, এসএম জিলানি, কাউন্সিলর প্রার্থী সাব্বির আহমেদ আরিফ, মকবুল আহমেদ টিপু, আবদুল কাদিরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রচারণায় অংশ নিতে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী সমর্থকরা বাংলাবাজার ও ফরিদাবাদ এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। এখান থেকে লোহারপুল, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ধুপখোলা মাঠ হয়ে ৪৫, ৪০ ও ৩৯ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। গণসংযোগ চলাকালে বিকেল পাঁচ টায় ধূপখোলার পথসভায় ইশরাক হোসেন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আজকের ক্ষমতাসীনদের খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এ ভয়ে তারা রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে দলীয়করণ করে জোর-জবরদস্তি ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা আজ উন্নয়নের কথা বলছে। অথচ ঢাকা শহরের কোথায়ও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। পদ্মা সেতুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা করে পিলার বসে আর সেটার উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পে এক টাকার জিনিস ১০০ টাকায় কেনা হয়েছে। তারপরও কবে এ সেতুর কাজ শেষ হবে তা কেউ বলতে পারেনা। ২০০ টাকার বালিশ ৮০০০ টাকার কেলেঙ্কারির কথা সবার মুখে মুখে। এভাবে গত ১৩ বছরে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। এত টাকা বাংলাদেশে থাকলে পুরো দেশটা আজকে আধুনিক নগরিতে পরিণত হত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটা পরিবর্তন দরকার। সেই পরিবর্তনের সুবর্ণ সুযোগ আগামী পহেলা ফেব্রæয়ারী। আপনারা দলবেঁধে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই গণজাগরনকে সফল করবেন। আমি গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করবো। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমার প্রতিদিনকার বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিপক্ষ বিন্দুমাত্র ধারণা রাখেন না। কারণ আমি প্রতিদিনই ঢাকাবাসীর সমস্যা নিয়ে কথা বলছি। সমন্বয়হীনতা, নগর সরকার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধনসহ নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরে এর সমাধানের পরিকল্পনার কথাও বলে আসছি। কিন্তু তারা হয়তো এগুলা শুনছে না। কারণ তারাতো ব্যর্থ। গত ১৩ বছরে ঢাকাসহ বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে। তাই তারা আগামীতেও কোন কিছু করতে পারবে না, কোন পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ কারণে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ক্ষমতায় আসতে হলে ভোট চুরি করে আসবে। তখন আর জনগণের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না, জবাবদিহীতা থাকবে না। কারণ জবাবটা কাকে দিবে? ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ’৭১-এর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইশরাক হোসেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শুধুমাত্র সাদেক হোসেন খোকাই নন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোও দেশে মৃত্যুবরণ করতে পারেননি। তিনি মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ওনার পরিবারের দুঃখটা আমি খুব ভাল করে বুঝি। কারণ আমার বাবাও একই ধরনের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ওনাকেও বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে এই বাংলাদেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দেয়া হয়নি। তবে এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। জনগণ সব দেখছেন, মহান আল্লাহতালা এগুলো দেখছেন। আল্লাহ যথাসময়ে এর বিচার করবেন। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোন নোটিশ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এমন ধরনের কোন নোটিশ পাইনি। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, আমি আমার বাবার রাজনৈতিক আদর্শকে মনে-প্রাণে ধারণ করি। আমরা অসাম্প্রদায়িক দেশে বসবাস করি। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করি। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় আমরা হিন্দু-মুসলমান একসাথে বসবাস করে আসছি। এই জায়গায় আমরা কোন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে স্থান দেইনি, আগামীতেও দেবো না। ’৯০-এর দশকে বাবরী মসজিদের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় এখানে একটা দাঙ্গা হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। সেই সময় আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকা এবং তখনকার মেয়র মির্জা আব্বাস সাহেব রাতভর পুরান ঢাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি-ঘর পাহারা দিয়েছেন। গণসংযোগকালে সড়কের দুই পাশের দোকানপাট ও পথচারিদের হাতে লিফলেট বিতরণ এবং দোকানে দোকানে গিয়ে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ইশরাক হোসেন। এসময় তিনি আশপাশের বাড়িঘরে বসবাসকারি নারী-পুরুষের কাছে ভোট চেয়েছেন হাতের ইশারায়। আজও বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটাররা বিভিন্ন স্থানে দলবেঁধে ইশরাক হোসেনকে ফুল দিয়ে বরন করতে দেখা যায়। কেউ কেউ তাকে ফুলের মালাও পরিয়ে দেন। শিশু-কিশোররা রাস্তার পাশে দাড়িয়ে হাত নেড়ে তাকে ডাকছিলেন। তখন ইশরাকও তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে বাচ্চাদের মাথায় হাত দিয়ে তাদের নাম জানতে চান এবং কথা বলেন। এ সময় তার সাথে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও আশেপাশের লোকজনের হাতে তালিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে উঠে। স্থানীয় এক বাচ্চার মা রানিতা বর্মন বলেন, বিএনপি’র এই মেয়র প্রার্থীকে দেখেই ভদ্র মানুষ মনে হয়। এত লোকের মাঝে আজকে তিনি যেভাবে আমাদের বাচ্চাদের ডাকে সাড়া দিলেন তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায় তিনি একজন বড় মনের অধিকারী মানুষ। আমার বাচ্চা বলছেন তাকে ভোট দেওয়ার জন্য আমার পরিবার এবার তাকেই ভোট দিবে। গণসংযোগ চলাকালে নারী-পুরুষসহ অনেকে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে শঙ্কার কথাও জানান ইশরাক হোসেনকে। তিনিও অভয় দিয়ে তাদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার কথা বলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here