করোনায় সৌদিতে ২১ দিনের কারফিউ শুরু

0
27

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২১ দিনের কারফিউ শুরু হয়েছে সৌদি আরবে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কারফিউ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে রোজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার।

কারফিউ অমান্য করলে প্রথমবার ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, দ্বিতীয়বার ২০ হাজার সৌদি রিয়াল, তৃতীয়বার ২০ দিনের জেল এবং ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

দেশটিতে কারফিউ জারির পর লোকজনের চলাচল হ্রাস পায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। কারফিউ শুরুর আগের দিন সন্ধ্যা থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোর সড়ক জনমানবশূন্য হতে থাকে।

সন্ধ্যা ৭টায় কারফিউ শুরু হওয়ার পর লোকজনকে বের হতে দেখা যায়নি।

তবে কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে গিয়ে কিংবা ঘরে ফিরতে বিলম্ব করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়ে জরিমানা দিয়েছেন। এর আগে নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করেছিল প্রশাসন।

সৌদি আরবের বাদশাহ ও দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে কারফিউ আদেশ জারি করেছেন।

সোমবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

সরকারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট, সামরিক, মিডিয়া এবং স্বাস্থ্য ও পরিষেবা খাতে নিয়োজিত কর্মচারীরা কারফিউর আওতামুক্ত থাকবে। সৌদি আরবের সব নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীদের বিশেষত কারফিউ চলাকালীন তাদের বাড়িতে অবস্থান করা এবং প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতীত ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য আদেশে বলা হয়।

কারফিউর আওতামুক্ত থাকবে যেসব এলাকা

১. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রির সুপার মার্কেট, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মাংস, সবজি ও উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

২. স্বাস্থ্য ও ফার্মেসি খাতে কর্মরতরা।

৩. গণমাধ্যমকর্মীরা।

৪. খাদ্যদ্রব্য ও চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি ও এজাতীয় পণ্য পরিবহনসংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

৫. অনলাইনে পণ্য বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পণ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য।

৬. হোটেল, মোটেল ও বোর্ডিংয়ের কর্মীরা।

৭. পেট্রলপাম্প ও জরুরি বিদ্যুৎ পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

৮. আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী ও জরুরি ইন্স্যুরেন্স সেবা প্রদানকারী কোম্পানির কর্মীরা।

৯. টেলিকমিউনিকেশন ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোম্পানির কর্মীরা।

১০. পানি কোম্পানির কর্মীরা।

১১. নিরাপত্তা সংস্থা, স্বাস্থ্য দফতরসহ সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

১২. জরুরি ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী ডেলিভারির যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

১৩. এ সময়ে মুয়াজ্জিনরা শুধু মসজিদে আজান দেয়ার জন্য মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হতে পারবেন।

১৪. কূটনৈতিক মিশনে ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরতরা জরুরি প্রয়োজনে তাদের কর্মস্থলে যেতে পারবেন।

আরও তথ্যের জন্য, সৌদি আরব সব অঞ্চলে টোল ফ্রি নম্বর ৯৯৯ এবং মক্কা অঞ্চলের জন্য ৯১১-এ যোগাযোগ করুন। ভোক্তা অধিকার টোল ফ্রি নাম্বার ১৯০০ এবং ঘরে ঘরে খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনলাইন কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ১৯৯৬৬ এই নাম্বারে কল করতে পারবেন।

এমতাবস্থায় সৌদি আরবে বসবাসরত সব বাংলাদেশি অভিবাসীদের কারফিউ চলাকালীন সব নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ।

এদিকে সৌদি পাসপোর্ট ডিপার্টমেন্ট, যেসব ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরব আসার পর দেশে ফিরে যেতে পারেনি, তাদের আগামী ২৮ মার্চের ২০২০-এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ নাম নিবন্ধনের অনুরোধ জানিয়েছে। https://t.co/2LydEZZdJh এই লিংকে নিবন্ধন করতে হবে।

করোনাভাইরাসে সৌদি আরবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬২ জনের। এদের মধ্যে ২৯ জন শিশুসহ ২৬৬ জন প্রাপ্তবয়ষ্ক পুরুষ ২৯৬ নারী রয়েছে।

এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। তবে নতুন কোনো বাংলাদেশির আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া কোনো রোগীর মৃত্যু সংবাদ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here